সম্প্রতি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে বেশ জোরালোভাবে। দেশের বিভিন্ন মহল এই দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। একইসঙ্গে নিষিদ্ধের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও পুলিশের আইজির কাছে পাঠানো হয়েছে আইনি নোটিশ।
চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং খুনিদের বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামসহ সারাদেশ। চট্টগ্রাম আদালতে নথিপত্রে বিক্ষুব্ধরা আগুন দিয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন আইনজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী।
এসব কর্মসূচি থেকে আলিফ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ইসকনকে নিষিদ্ধের জোর দাবি জানানো হয়। না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যাতে বিনষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে সরকার ও দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিক্ষুব্ধ আলেমরা মাদারীপুরের শিবচরে ইসকন কার্যালয় বন্ধ করে দেন। সহকর্মী খুনের ঘটনায় চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতি আজ বৃহস্পতিবারও আদালত বর্জনসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে।
এদিকে চার দফা জানাজা শেষে গতকাল চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে আলিফের দাফন সম্পন্ন হয়। তাঁর লাশ গ্রামে নেওয়ার পর কান্নার রোল পড়ে যায়। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। মরহুমের জানাজায় ঢল নামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের।
গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনজীবীদের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনজীবী আলিফকে (৩৫) হত্যা করা হয়। এ জন্য ইসকন কর্মীদের দায়ী করেছেন আইনজীবীরা।

Post a Comment