মঙ্গলবার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ইসকনের আন্দোলনে দেশি বিদেশি ইন্ধন রয়েছে।
যদিও বাংলাদেশে ইসকনের কেন্দ্রিয় নেতৃত্ব দাবি করেছেন কয়েকদিন আগেই মি. দাসকে ইসকন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ইসকন বহিষ্কারের দাবি করলেও তাকে আটকের পর বৈশ্বিক ইসকনের পক্ষ থেকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিও দেয়া হয়েছে।
বিবিসি বাংলার সংবাদ মাধ্যম থেকে পাওয়া তারা বিভিন্ন ইসকন মন্দিরের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছে 'বহিস্কৃত' হলেও মি. দাস এখনো ইসকন পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন।
তবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় যে আন্দোলনটি করছেন সেটি করা হচ্ছে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের ব্যানারে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আসল নাম ছিল চন্দন কুমার ধর। বাংলাদেশে ইসকনের সংগঠকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। ভক্তরা তাকে ডাকেন ‘চিন্ময় প্রভু’ নামে।
গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সনাতন ধর্মের নাগরিকদের অধিকার নিয়ে গঠিত জোটের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় তাকে।
তার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। বিশেষত গত অক্টোবরে চট্টগ্রামে একটি মিছিলের সময় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এর আগে গত তেসরা জুলাই ইসকন পরিপন্থী বিভিন্ন কাজের সাথে যুক্ত থাকায় তাকে ইসকন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি সত্য রঞ্জন বাড়ৈ তাকে সতর্ক করে চিঠি দেয়। সেখানে তার বিরুদ্ধ পাঁচটি অভিযোগও আনা হয়।
পরে গত ৯ই নভেম্বর ইসকন বাংলাদেশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস জানান সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ইসকনের যাবতীয় কার্যক্রম থেকে চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ইসকন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা বিমলা কুমার ঘোষ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে সতর্কীকরণের পরও যখন কথা শোনেনি তখন তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তিনি দলের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করে”।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছে, বহিষ্কারের কারণে মি. দাস ইসকনের হয়ে জনসম্মুখে বক্তব্য বিবৃতি বা ধর্মীয় কোন কাজ করতে পারবে না।
ইসকনের পক্ষ থেকে মি. দাসকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি চট্টগ্রামের ইসকন পরিচালিত পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষের দায়িত্বে কিভাবে থাকেন সেই প্রশ্ন করা হয়েছিল ইসকনের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে।
জবাবে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা বিমলা কুমার ঘোষ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “তাকে আমরা পদ পদবী থেকে বহিষ্কার করে দিতে পারি।কিন্তু তার গুরু শিক্ষা থেকে তো সরানোর ক্ষমতা আমাদের নেই”।
তবে তিনি জানিয়েছেন, এরপরও যেহেতু নতুন করে তাকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে আরো নতুন কোন সিদ্ধান্ত আসতে পারে দলের পক্ষ থেকে।
যদিও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আটকের পর ভারতের হস্তক্ষেপ চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইসকন বৈশ্বিক প্লাটফরম।
তাদের অফিশিয়াল এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলে টুইট করে জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের সাথে ইসকনের যুক্ত থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং অত্যন্ত আপত্তিজনক।

Post a Comment