Top News

‘যেভাবে হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছি, সেভাবে দিল্লির আগ্রাসনও রুখে দেব’

শরীরের এক ফোঁটা রক্ত থাকা পর্যন্ত ভারতীয় আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার। তিনি বলেন, ‘যেভাবে হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছি, সেভাবেই আমরা দিল্লির আগ্রাসনও রুখে দেব’।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) ভারতের আগরতলার কুঞ্জবনে অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভের সময়ে এসব কথা বলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই সমন্বয়ক।

মাহিন সরকার বলেন, ভারতকে বলতে চাই, এদেশে আর আওয়ামী লীগের ক্ষমতা নেই৷ সুতরাং তারা যেনো আওয়ামী লীগের আমলের মতো করে এদেশে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা না করে। আমরা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়েছি, পাকিস্তানের বৈষম্যনীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। দেশের প্রশ্নে আমরা আবারও লড়াইয়ে নামতে রাজি আছি। শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকা পর্যন্ত আমরা ভারতের আধিপত্য মেনে নেব না। যেভাবে আমরা হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছি সেভাবেই আমরা দিল্লির আগ্রাসনও রুখে দেব।

ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আয়োজিত সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’; ‘আপোষ না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’; ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’; ‘ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দাও জনগণ’; ‘হাইকমিশনে/আগরতলায় হামলা কেন৷ দিল্লি তুই জবাব দে’; ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’; ‘আমরা কি চাই, আজাদি আজাদি’; ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভারত আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ। তাদের সঙ্গে আমাদের সর্ম্পক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মতো হবে। কোনোভাবেই তাদের সঙ্গে আমাদের রাজা-প্রজার সম্পর্ক হতে পারে না৷ ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনে হামলার জন্য তাদের মাশুল দিতে হবে। অবশ্যই বাংলাদেশের জনগণের কাছে ভারতকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে৷

বক্তারা আরও বলেন, আমরা সবেমাত্র গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ পেলাম। এখনো অনেকের চোখ নাই, পা নাই, অনেকে কবরে শুয়ে আছে। এসবের জন্য তাদের মায়াকান্না হয় না। তাদের মায়াকান্না হয় আবার ক্ষমতায় আসতে। আমরা তাদেরকে সেই স্বাদ পুনরায় নিতে দেব না। দিল্লির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হবে চোখে চোখ রেখে। আমরা গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছি দিল্লির দাদাদের দাদাগিরি করার জন্য না। মাতৃভূমি না হয় মৃত্যু। আমরা দেশের যেকোনো প্রয়োজনে, দিল্লির বিরুদ্ধে গিয়ে আমরা নিজের রক্ত ঢেলে দেব।ভারত ইস্যুতে জগন্নাথ হল নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগকে নাকচ করে জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থী জয় পাল বলেন, আমরা সবাই বাংলাদেশি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জাত-পাত সব ভুলে আমাদের পরিচয়, আমরা বাংলাদেশি। আমরা দেখেছি বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় সনাতনীদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের ওপর যে ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা শুধু জগন্নাথ হলই নয় সারা বাংলাদেশের মানুষকেই জানাতে হবে।  ভারত ইস্যুতে জগন্নাথ হলকে নিয়ে অনলাইনে বিভিন্ন কথা বলা হয়। আমরা নাকি ভারতের দালাল কিন্তু এই মিছিলে আজ জগন্নাথ হল থেকে সবচেয়ে বেশি লোক এসেছে। আমাদের একটাই পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।

Post a Comment

Previous Post Next Post