Top News

প্রথম আলো -ডেইলি স্টারের সামনে বিক্ষোভ কারীদের অবস্থান নেওয়ার পেছনে মূল উদ্দেশ্য কি?


গত বৃহস্পতিবার কাওরান বাজার এলাকায় অবস্থিত দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে একদল ব্যক্তি।

‘বাংলাদেশের জনগণ’ ব্যানারে একত্রিত হওয়া ওইসব বিক্ষোভকারীরা অবশ্য সেদিন খুব বেশি সময় পত্রিকাটির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করতে পারেননি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে সরিয়ে দেন।

এর পরদিন, অর্থাৎ শুক্রবার একই ব্যানারে তারা অবস্থান নেয় ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় অবস্থিত দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে। বিক্ষোভকারীরা জানান, ‘ভারতীয় আগ্রাসন’ প্রতিরোধে তারা প্রথম আলো-ডেইলি স্টার পত্রিকার সামনে ‘জিয়াফত’ ও ‘জোড়া গরু জবেহ’ কর্মসূচি পালন করবেন।

সেদিন পত্রিকাটির কার্যালয়ের সামনের সড়কে জুমার নামাজও পড়েন তারা, যা নিয়ে পরবর্তীতে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হতে দেখা যায়।

একই ধারাবাহিকতায় শনিবারেও দুই পত্রিকা অফিসের সামনে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান নেয় দলটি।

কিন্তু রোববার দুপুর থেকে প্রধানত প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করতে থাকে অর্ধ-শতাধিক বিক্ষোভকারী।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সেদিন সত্যি সত্যি গরু এনে সেটি জবাই করে এবং প্রথম আলো কার্যালয়ের পাশের একটি সড়কে হাড়ি বসিয়ে রান্নাও করতে শুরু করেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকেলে কার্যালয়টির সামনে বড় সংখ্যক সেনা ও পুলিশের সদস্য মোতায়েন করে প্রশাসন। সেসময় বিক্ষোভকারীদের ওই এলাকা থেকে সরে যেতে বলে পুলিশ।

কিন্তু তারপরও না সরতে চাওয়ায় একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে উভয়পক্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়।

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ পরে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এমন পরিস্থিতিতে গোটা কারওয়ান বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রাতে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসলেও সোমবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, বরিশাল, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ মিছিল ও মানববন্ধন করে বিক্ষোভকারী ও তাদের সমর্থকরা। 

‘বাংলাদেশের জনগণ’, ‘তৌহিদী জনতা’সহ বিভিন্ন ব্যানারে একত্রিত হওয়া ওইসব বিক্ষোভকারীরা পত্রিকা দু’টির সম্পাদকের পদত্যাগ ও বিচার চাচ্ছেন।

এমনকি, বিক্ষোভ মিছিল থেকে সোমবার প্রথম আলোর দু’টি জেলা কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনাও ঘটানো হয়েছে, যা নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগ তুলে ‘চাপ সৃষ্টি’ করতেই পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে পত্রিকাটির কর্তৃপক্ষ।তবে কারা এর পেছনে রয়েছে, সে বিষয়ে অবশ্য তারা নিশ্চিত নন।

এদিকে, হামলার ঘটনায় সাংবাদপত্রের মালিক ও সাংবাদিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, এ ধরনের ঘটনা আগামীতে আর সহ্য করা হবে না।

বাংলাদেশে অবশ্য এর আগে ২০০৭ সালেও একবার একটি ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকে কেন্দ্র করে প্রথম আলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল।

কিন্তু এবার প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে হঠাৎ এই বিক্ষোভের কারণ আসলে কী?

Post a Comment

Previous Post Next Post